সর্বশেষ আপডেট : ২ ঘন্টা আগে
মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ খ্রীষ্টাব্দ | ২৪ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

বড়লেখায় গৃহবধূ মুন্নির মৃত্যু, স্বামীসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা

খলিলুর রহমান, বড়লেখা প্রতিনিধি ::

মৌলভীবাজারের বড়লেখায় গৃহবধূ মরিয়ম আক্তার মুন্নির (২২) মৃত্যুর ঘটনায় স্বামী, শাশুড়ি, ননদ, ভাসুর ও জাসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। যৌতুকের পাঁচ লাখ টাকা ও ঋণের কিস্তির টাকা পরিশোধের জন্য দীর্ঘদিনের শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের কারণে মুন্নিকে আত্মহত্যায় প্ররোচিত করা হয়েছে বলে মামলার এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে।

গত ২১ আগস্ট উপজেলার মুড়িরগুল এলাকায় শ্বশুরবাড়ি থেকে মুন্নির ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ঘটনাটি হত্যা নাকি আত্মহত্যা—এ নিয়ে এলাকায় নানা আলোচনা হয়। পরে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনে তাঁর মৃত্যুর কারণ আত্মহত্যা বলে উল্লেখ করা হয়। এর পর গত ৫ সেপ্টেম্বর রাতে মুন্নির মা রেনু বেগম বাদী হয়ে বড়লেখা থানায় মামলা করেন।

মামলায় ছয়জনের নাম উল্লেখ করে আরও পাঁচজনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে।

এজাহার সূত্রে জানা যায়, প্রায় চার বছর আগে মুড়িরগুল এলাকার মৃত ইয়াছিন আলীর ছেলে লাভলু আহমদের সঙ্গে মুন্নির বিয়ে হয়। তাঁদের আড়াই বছর বয়সী একটি মেয়ে রয়েছে। লাভলু বর্তমানে সৌদি আরব প্রবাসী।

মুন্নির পরিবারের অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই শ্বশুরবাড়ির লোকজন তাঁর কাছে পাঁচ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করে আসছিলেন। ওই টাকা দিয়ে লাভলু সৌদি আরবে গাড়ি কিনবেন বলে মুন্নিকে চাপ দেওয়া হতো। টাকা দিতে না পারায় বিভিন্ন সময় তাঁকে গালিগালাজ এবং শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হয়।

এজাহারে আরও বলা হয়েছে, শ্বশুরবাড়ির লোকজন মুন্নিকে বিভিন্ন ঋণদানকারী প্রতিষ্ঠান থেকে টাকা তুলে দেওয়ার জন্য চাপ দিতেন। একপর্যায়ে মুন্নির বাবা জামিনদার হয়ে তাঁর নামে একটি বেসরকারি ঋণদানকারী প্রতিষ্ঠান থেকে পাঁচ লাখ টাকা ঋণ নিয়ে শ্বশুরবাড়ির লোকজনকে দেন। পরে ওই ঋণের কিস্তি পরিশোধে ব্যর্থ হলে মুন্নির ওপর আবারও চাপ সৃষ্টি করা হয়।

পরিবারের অভিযোগ, ঘটনার দিন ২১ আগস্ট মুন্নিকে পিত্রালয় থেকে টাকা এনে ঋণের কিস্তি পরিশোধের জন্য চাপ দেওয়া হয়। তিনি টাকা দিতে অপারগতা জানালে তাঁকে গালিগালাজ ও মারধর করা হয়। এ সময় নির্যাতনের কিছু অডিও পরিবারের সদস্যদের কাছে পাঠিয়েছিলেন মুন্নি। তাঁর মায়ের দাবি, স্বামীর কাছ থেকেও ফোনে হুমকি ও মানসিক চাপ দেওয়া হতো।

পরে ওই দিন দুপুরের দিকে স্থানীয় এক জনপ্রতিনিধি মুন্নির বাবাকে ফোন করে তাঁর মৃত্যুর খবর দেন। পরিবারের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে মুন্নিকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। খবর পেয়ে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে ময়নাতদন্তের জন্য মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে পাঠায়।

মুন্নির মা রেনু বেগমের অভিযোগ, মেয়ের লাশ গোসল করানোর সময় তাঁর শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন দেখা যায়। নির্যাতনের অডিও ও ভিডিও তাঁদের কাছে সংরক্ষিত রয়েছে বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁর দাবি, স্বামীসহ শ্বশুরবাড়ির লোকজনের দীর্ঘদিনের নির্যাতন, মানসিক যন্ত্রণা ও আত্মহত্যায় প্ররোচনার কারণে মুন্নি এ পথ বেছে নেন।

এর আগে মুন্নির বাবা মকবুল আলী বড়লেখা থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা করেছিলেন। পরে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর তাঁর মা লিখিত অভিযোগ দেন।

বড়লেখা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান খান মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, আসামিদের গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশের অভিযান চলছে।

ঘটনাস্থলে পুলিশের তল্লাশি

এদিকে রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে মৌলভীবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, বড়লেখা থানার ওসিসহ পুলিশের কর্মকর্তারা মুন্নির শ্বশুরবাড়ির ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এ সময় পুলিশ কর্মকর্তারা মুন্নির বাবাকে খবর দিলে তিনিও সেখানে যান। পরে পুলিশ কর্মকর্তারা তাঁর সঙ্গে কথা বলেন।

স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে মুন্নির ঘরের তালা খুলে তল্লাশি চালায় পুলিশ। এ সময় ঘরের ভেতর থেকে বিভিন্ন জিনিসপত্র ও প্রয়োজনীয় আলামত খোঁজা হয়। পাশাপাশি মুন্নির ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটিও খোঁজা হয়।

তল্লাশির সময় মুন্নির দুই বছর বয়সী শিশুকন্যা ‘মা, মা’ বলে চিৎকার করছিল। মাকে হারানো শিশুটির এমন আকুতিতে সেখানে এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Comments are closed.

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদক ও প্রকাশক: খন্দকার আব্দুর রহিম
নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
মোবাইল: ০১৭১২ ৮৮৬ ৫০৩
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: